আমরা প্রতিনিয়ত এমন কিছু খাবার খেয়ে থাকি যেগুলো স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে বিক্রি হলেও এগুলোর বেশ কিছু উপাদান শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে এসব খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে তা অন্ত্রের উপকারী জীবাণু বা মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো বলছে, অন্ত্রের এই ভারসাম্যহীনতা মানুষের হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
মানবদেহের অন্ত্রে থাকা উপকারী জীবাণু শরীরের নানা ধরনের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ, কোলেস্টেরল বিপাক এবং রক্তনালির সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু তথাকথিত স্বাস্থ্যকর কিছু খাবার এই প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে। স্বাস্থ্যকর মনে হলেও এমন পাঁচটি খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রথমত, প্রোবায়োটিক থাকার কারণে অনেকেই স্বাদযুক্ত দইকে উপকারী মনে করেন। তবে বাজারে পাওয়া বেশির ভাগ স্বাদযুক্ত দইয়ে অতিরিক্ত চিনি ও সিরাপ মেশানো থাকে। নিয়মিত এই দই খেলে অন্ত্রে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটে, যা ওজন বাড়ায় এবং ইনসুলিন প্রতিরোধ ও হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে।
দ্বিতীয়ত, আস্ত ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হলেও প্যাকেটজাত ফলের রসে সাধারণত কোনো আঁশ থাকে না। এতে থাকা প্রাকৃতিক চিনি খুব দ্রুত রক্তে মিশে গিয়ে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘমেয়াদে এই রস পান করলে বিপাকীয় সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তৃতীয়ত, অনেকেই গ্লুটেনমুক্ত খাবারকে স্বাস্থ্যকর বিকল্প ভাবেন। কিন্তু এসব খাবারে চালের আটা বা আলুর শ্বেতসারের মতো পরিশোধিত উপাদান বেশি ব্যবহার করা হয়। আঁশ কম থাকায় এটি অন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
চতুর্থত, মাংসের বিকল্প হিসেবে উদ্ভিদভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত খাবার জনপ্রিয়তা পেলেও এগুলো সব সময় উপকারী নয়। এসব পণ্যে অতিরিক্ত লবণ, পরিশোধিত তেল এবং খাবার সংরক্ষণের নানা রাসায়নিক উপাদান থাকে। অতিরিক্ত লবণ উচ্চ রক্তচাপ বাড়ায় এবং অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট করে।
পঞ্চমত, বাজারে যেসব স্মুদি বা স্বাস্থ্যকর পানীয় পাওয়া যায়, তার অনেকগুলোতেই লুকানো চিনি ও বিভিন্ন কৃত্রিম সংযোজনী থাকে। এগুলোতে আঁশের পরিমাণ খুবই কম থাকায় শরীর দ্রুত ক্যালরি পেলেও দীর্ঘস্থায়ী পুষ্টি মেলে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদযন্ত্র ও অন্ত্র সুস্থ রাখার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা। এর বদলে তাজা ফলমূল, শাকসবজি, ডাল, বাদাম, বীজ এবং পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার খাওয়ার ওপর জোর দিতে হবে। এসব খাবারে থাকা আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অন্ত্রের জীবাণুকে সুস্থ রাখে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
সূত্র: ইন্টারনেট
