অতি বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে হাওরসহ দেশের নিম্নচলের ধান ক্ষেত পানিতে তলিতে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে কৃষক ও বর্গাচাষীরা অসহায় হয়ে পড়েছে। হাওরে বছরে একবার ফসল হয়।এ ধান বিক্রি করে তাদের সারা বছরের খাবার, ঋণ পরিশোধ,সন্তানের শিক্ষা, চিকিৎসাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ সম্পাদন করে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে ধান তলিয়ে যাওয়ায় সর্বস্ব হারিয়ে এখন তারা হতাশ, অসহায়। তারা কিভাবে পরিবার নিয়ে খেয়েপড়ে বেঁচে থাকবেন সে ভাবনাটাই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। এছাড়া ধান চাষের সময় বীজ, কীটনাশক, সেচ বাকিতে কিনতে হয়েছিল। সে দেনা পরিশোধও তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এছাড়া এনজিও ঋণের কিস্তিতো আছেই। নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের যথাযথ ক্ষতিপুরণ, ঋণের কিস্তি মওকুফের দাবি করেন।
কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে হাওরের ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে ফসলহানির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের যথাযথ ক্ষতিপুরণ ও জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে আজ ২ মে, ২০২৬ শনিবার সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কৃষক-ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির কার্যকরী সভাপতি এডভোকেট আনোয়ার হোসেন রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ.এস.এম. সবুর, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি ডা. ফজলুর রহমান, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের সহ-সম্পাদক নিখিল দাস এবং সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের সভাপতি অধ্যাপক তরিকুল আলম, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অজিত দাস বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির চন্দন, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের সভাপতি বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার, বাংলাদেশ কৃষক ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা শহীদুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। বিক্ষোভ সমাবেশটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ কৃষক সমিতির নির্বাহী সদস্য লাকী আক্তার।
