ময়মনসিংহের ভালুকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ফসলি জমি নষ্ট করে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন অবিলম্বে বন্ধ, কৃষককে সরকারি রেটে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত ও ক্ষেতমজুরসহ দরিদ্র মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছে কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ। আজ ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, অতীতের আওয়ামী সরকারের রেন্টাল-কুইক রেন্টালের মতো বর্তমান সরকার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য বেসরকারী প্রতিষ্ঠানকে টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ দিয়েছে। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন জায়গায় দেখা যাচ্ছে, দলীয় নেতাকর্মীরা সাধারণ কৃষকের উর্বর ফসলী জমি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য জোর করে জায়গা দখল করছে।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি ফসলি জমি ও বসতবাড়ী এলাকায় ১৭০ একর জমি স্থানীয় সাংসদের স্ত্রীর নামে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র করার জন্য জোর করে নেওয়ার প্রচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংসদের স্ত্রীর আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রথমে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা আপত্তি জানালেও পরবর্তীতে নানান চাপে তারাই আবার অনাপত্তিপত্র দিয়েছেন বলে পত্রকায় খবর বের হয়েছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য সরকারের একটা নীতিমালা আছে। উর্বল ফসলী জমি, বসতবাড়ী ইত্যাদি উচ্ছেদ করে এ প্রকল্প করা যাবে না। সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে উপকূলীয় ও চরাঞ্চলের পতিত খাসজমিতে। এছাড়া মানুষের ক্ষতি না হয় এমন জায়গাকে বেছে নেয়া যেতে পারে। কিন্তু ভালুকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষকের ফসলী জমিতে জোর করেই সরকারদলীয় লোকজন সৌরববিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ করতে তৎপর রয়েছে। অতীতেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের বিভিন্ন স্থানে ফসলী জমিতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ফলে ঐ অঞ্চলের কৃষক বেকার হয়ে পড়েছে। নেতৃবৃন্দ সরকারি নিয়ম মেনে সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানায় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জোর দাবি জানান।
কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদের সমন্বযক ও ক্ষেতমজুর সমিতির কার্যকরী সভাপতি এডভোকেট আনোয়ার হোসেন রেজার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কৃষক সমিতির সভাপতি এডভোকেট এস এম এ সবুর, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি ডা. ফজলুর রহমান, জাতীয় কৃষক-খেতমজুর সমিতির সভাপতি অধ্যপক আব্দুস সাত্তার, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের সহ সাধারণ সম্পাদক নিখিল দাস, বাংলাদেশ কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগঠনের সদস্য রাজু আহমেদ, কৃষক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জগলুল পাশা প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন ক্ষেতমজুর সমিতির সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ধানের বিগত মৌসুমের শুরু থেকে কৃষক তার পর্যাপ্ত সার পায়নি। ফরিয়াসহ সরকারি দলের লোকজন সরকারি রেটে ধান বিক্রি করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে ‘দেশে সারের কোন সংকট নেই’ বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে কৃষক সরকারি রেটে বাজারে সার পাচ্ছে না। অনেকে বেশি দাম দিয়েও সার কিনতে না পারায় ফসল নষ্ট হচ্ছে। অতীতে কৃষক সারের জন্য রক্ত দিয়েছে। নেতৃবৃন্দ সরকারি রেটে কৃষকদের পর্যাপ্ত সার সরাবরাহের দাবি করেন। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, জ¦ালানী তেলের আরেক দফা দাম বাড়িয়েছে সরকার। এর ফলে দ্রব্যমূল্যসহ সবকিছুর দাম বাড়বে। কিন্তু ক্ষেতমজুরসহ দরিদ্র মানুষ তাঁদের আয় দিয়ে তিনবেলা খেতে পায় না। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান। এছাড়াও ক্ষেতমজুর সকল পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, বর্গাচাষীদের জন্য কৃষি কার্ডের নিশ্চয়তার দাবি করা হয় সমাবেশ থেকে। কৃষি জমি নষ্ট করে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিল, কৃষককে সরকারি রেটে সার সরবরাহ, ক্ষেতমজুরসহ দরিদ্র মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবিতে আগামী ৫ অক্টোবর জেলায়-জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে।