শনিবার (১৪ মার্চ) মার্কিন গণমাধ্যম এমএস নাউকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্বীকার করেছেন যে ইরান রাশিয়া ও চীনের কাছ থেকে সামরিক সহযোগিতা পাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি আরব আমিরাত এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে ইরানে হামলার ক্ষেত্রে আমিরাত তাদের ভূখণ্ড যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহার করতে দিয়েছে।
আরাঘচি বলেন, ইরান আপাতত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে না। তবে এই সম্ভাবনার কারণে বৈশ্বিক তেলের বাজারে ইতোমধ্যে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি খার্গ দ্বীপের সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রসঙ্গে বলেন, ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি এই দ্বীপের মাধ্যমেই হয়ে থাকে।ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের তেল ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তাহলে পারস্য উপসাগরজুড়ে তেল স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালাবে তেহরান।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনী ইতোমধ্যে জানিয়েছে—আমাদের তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা হলে তারা পাল্টা জবাব দেবে। তখন এই অঞ্চলে যেসব জ্বালানি স্থাপনা কোনো মার্কিন কোম্পানির মালিকানাধীন বা যেখানে মার্কিন কোম্পানির অংশীদারত্ব রয়েছে, সেগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।’
রাশিয়া ও চীনকে ইরানের ‘কৌশলগত অংশীদার’ উল্লেখ করে আরাঘচি বলেন, এই দুই দেশের সঙ্গে তেহরানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামরিক সহযোগিতা রয়েছে।
এদিকে পারস্য উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলারও সাফাই দেন তিনি। কাতার, কুয়েত ও সৌদি আরব অভিযোগ করেছে যে ইরানের হামলায় বেসামরিক এলাকাও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। আরাঘচি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ইরানের ওপর রকেট হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে সুযোগ দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। তার দাবি, দুবাই, রাস আল-খাইমাহসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে এসব হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক যে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ব্যবহার করে আমাদের বিরুদ্ধে রকেট হামলা চালানো হচ্ছে।’
তবে ইরানের এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। শনিবার বিকালে দেশটির এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, আরাঘচির বক্তব্য ‘বিভ্রান্তিকর নীতিরই প্রতিফলন’। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘সন্ত্রাসী আগ্রাসনের মুখে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। তবুও দেশটি সংযম বজায় রেখে যুক্তি ও কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং ইরান ও পুরো অঞ্চলের জন্য একটি উত্তরণের পথ খুঁজছে।’
পারস্য উপসাগরের অন্য দেশগুলোর কর্মকর্তারাও দাবি করেছেন, তারা বেসামরিক এলাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা চালানোর সুযোগ দেয়নি।এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ যে দাবি করেছেন—ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আহত হওয়ার বিষয়েও নাকচ করেছেন আরাঘচি। তিনি বলেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সুস্থ আছেন এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাও স্বাভাবিকভাবে চলছে। তার ভাষায়, ‘নতুন সর্বোচ্চ নেতার কোনো সমস্যা নেই। পুরো ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ করছে। সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
