Skip to content
  শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২৬
সাম্প্রতিক খবর
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • অর্থনীতি
  • খেলা
  • বিনোদন
  • সারাদেশ
  • স্বাস্থ্য
  • সাহিত্য
    • কবিতা
সাম্প্রতিক খবর
সাম্প্রতিক খবর
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • অর্থনীতি
  • খেলা
  • বিনোদন
  • সারাদেশ
  • স্বাস্থ্য
  • সাহিত্য
    • কবিতা
সাম্প্রতিক খবর
  আন্তর্জাতিক  ট্রাম্প, নয়া-ফ্যাসিবাদ ও বামপন্থা
আন্তর্জাতিককলাম

ট্রাম্প, নয়া-ফ্যাসিবাদ ও বামপন্থা

সাত্যকি রায়সাত্যকি রায়—March 26, 20250
© ইন্টারনেট
FacebookTwitterPinterestLinkedInTumblrRedditVKWhatsAppEmail

সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাদী রাষ্ট্রপ্রধানদের কথাবার্তা একটু যেন অন্যরকম ঠেকছে। মুক্তবাণিজ্য, বাজার অর্থনীতি, গ্লোবাল ভিলেজ, পূর্ণ প্রতিযোগিতা এসবের পরিবর্তে চড়া আমদানি শুল্ক, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য থেকে বিযুক্তি, বাণিজ্যযুদ্ধ, বেআইনি অভিবাসী, দেশের শিল্পনীতি এইসব কথা সামনে আসতে শুরু করেছে। বিশ্বায়নের সর্বব্যাপক প্রসারের আহ্বানের পরিবর্তে জাতি-রাষ্ট্রের আস্ফালন আবার যেন প্রকট হয়ে উঠছে। আমরা সম্ভবত নয়া-উদারবাদের একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করতে চলেছি। মনে রাখা দরকার নয়া-উদারবাদী প্রকল্পটি আসলে হল সবচেয়ে শক্তিশালী পুঁজিপতি শ্রেণির আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রকল্প। এটিকে শুধুমাত্র পুঁজিবাদী অর্থনীতি সংগঠনের ধরন হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এই শ্রেণি আধিপত্য কার্যকরী করতে রাষ্ট্র নানা ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। অর্থনীতিতে সমবেত নিয়ন্ত্রণের যা কিছু প্রতিষ্ঠান আছে তাকে ধ্বংস করাই নয়া-উদারবাদী রাষ্ট্রের প্রধান কাজ হয়ে ওঠে।

নয়া-উদারবাদ মানে অর্থনীতিতে রাষ্ট্রের সরাসরি ভূমিকা কমিয়ে আনা। কিন্তু এই কমিয়ে আনার কাজটি সক্রিয়ভাবে করে থাকে নয়া-উদারবাদী রাষ্ট্রই। বাজার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই ব্যক্তিগত মালিকানার লাগামহীন প্রসারের সুযোগ করে দেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে যা কিছু অবশিষ্ট ছিল, তাকে বৃহৎ একচেটিয়া ফিন্যান্স পুঁজির হাতে তুলে দেওয়ার কাজ করেছে নয়া-উদারবাদী রাষ্ট্র।

প্রশ্ন হলো, তাহলে কি ট্রাম্পের দ্বিতীয় আগমন এই রাষ্ট্রের নতুন কোনও অভিযোজনকে সূচিত করছে? উত্তর একই সাথে হ্যাঁ এবং না। আসলে কোনো মৌলিক পরিবর্তন ঘটেনি। শুধু শ্রেণি আধিপত্য কায়েমের আদল বদলাচ্ছে। শক্তিশালী একচেটিয়া ফিন্যান্স পুঁজির কর্তৃত্ব রক্ষার স্বার্থে কখনো বাজারের আধিপত্য ও প্রতিযোগিতার কথা প্রধান হতে পারে, আবার কখনও উগ্র রাষ্ট্রবাদ ও জাতীয় স্বার্থ সামনে চলে আসতে পারে। নতুন অভিযোজন খালি এইটুকুই যে আজকের দিনের পুঁজিবাদী রাষ্ট্র সরাসরি ঘোষণা করছে আমরা বৃহৎ পুঁজির পক্ষে, বৃহৎ পুঁজির সুরক্ষাই জাতি ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিকে সুনিশ্চিত করবে। এবং সেই প্রয়োজনে কখনও বাজার উন্মুক্ত করার কথা বলা হবে, আবার কখনও দেশের শিল্প সুরক্ষার নামে অর্থনৈতিক প্রাচীরের পুননির্মাণ করতে হবে। কোনও রকম আড়াল না-রেখে দেশের নীতি নির্ধারণে ও রাজনীতি পরিচালনায় সরাসরি বৃহৎ কর্পোরেট পুঁজিকে শামিল করতে হবে। এটাই হলো ট্রাম্প জমানার নয়া-উদারবাদ।

More stories

সনদের মোহে নিঃস্ব অভিভাবক: আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার এক করুণ ট্র্যাজেডি

August 6, 2026

শ্রমিকদের রাষ্ট্রের রাইফেলকে মুখোমুখি দাঁড় করাবেন না

October 31, 2024

কন্ট্রকচুয়াল সার্ভিস কি দাস প্রথা

June 8, 2025

আমরা বিশ্বাস করি জনতায় ও জীবনে

August 3, 2024

পুঁজিবাদের দীর্ঘ ইতিহাসে বিস্তৃতির ভিত্তিতে পুঁজির বিকাশ ও জাতীয় পরিসরে নিবিড় শোষণের একাধিক পর্যায়ে দেখা গেছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে ১৮৭৩-৯৬ এই সময়টি আসলে পুঁজিবাদের বিশ্বায়নের পর্যায় ছিল। বাণিজ্য ও বাজারের প্রসার, প্রতিযোগিতা এটাই ছিল ওই পর্যায়ের পুঁজিবাদের বিকাশের সারমর্ম। কিন্তু প্রতিযোগিতার প্রসার স্বাভাবিকভাবেই উৎপাদন খরচ কমানোর বাধ্যবাধকতা তৈরি করে। সেই লক্ষ্যে পুঁজি ক্রমাগত মজুরির উপর আঘাত হানতে শুরু করে, তৈরি হয় চাহিদার সংকট এবং একই সাথে শ্রমজীবী মানুষের প্রতিরোধের পর্যায়। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি এবং ইউরোপ জুড়ে শ্রমজীবী মানুষের আন্দোলনের একের পর এক অভিঘাত আছড়ে পড়েছিল, যার সর্বোচ্চ পরিণতি আমরা দেখতে পাই ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবে, তা পুঁজিবাদের সংকটকে এক নতুন চেহারা দিয়েছিল। ইউরোপে রাষ্ট্রবাদের উত্থান বা ধ্রুপদী ফ্যাসিবাদের আবির্ভাব এই বর্ধিত শ্রেণি সংগ্রামের পরিপ্রেক্ষিতেই জন্ম নিয়েছিল। সোভিয়েত ইউনিয়নের আবির্ভাব পুঁজিবাদকে অভিযোজনে বাধ্য করেছিল, তৈরি হয়েছিল সমাজগণতন্ত্রী জনকল্যাণকর রাষ্ট্রের রূপ। ডিমিত্রভ, রজনী পাম দত্ত অথবা গ্রামশি ও ট্রটস্কির ফ্যাসিবাদ সম্পর্কিত আলোচনা, অথবা পরবর্তীতে সুইজির ফ্যাসিবাদের ব্যাখ্যা, এমনকি তারও বহু আগে মার্কসের অষ্টাদশ ব্রুমেয়ার-এ বোনাপার্টইজমের ধারণা– এই সবের মধ্যে নানাভাবে দু’টি কথা উঠে এসেছে। এক, ফ্যাসিবাদ পুঁজিবাদের কোনও একটি পর্যায়ে নয়, আসলে একটি চলমান আন্দোলন যে রাষ্ট্র ক্ষমতায় তখনই আসে যখন একচেটিয়া পুঁজিপতি শ্রেণি তার অর্থনৈতিক ও সামাজিক আধিপত্যের গভীর সংকট অনুভব করে। প্রচলিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলি যখন শ্রেণি আধিপত্য প্রসারে বাধা সৃষ্টি করে, তখনই ফ্যাসিবাদ আবির্ভূত হয়, যাকে ডিমিত্রভ দেখেছিলেন ফিন্যান্স পুঁজির সব চাইতে প্রতিক্রিয়াশীল, সাম্রাজ্যবাদী ও জাত্যাভিমানী অংশের একনায়কতন্ত্র হিসেবে। দুই, আর্থ-সামাজিক সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমজীবী জনতা যখন শ্রেণি শক্তি হিসেবে উপনীত হতে, অথবা সংকটের পরিত্রাণের পথে সমাজ বিপ্লবের দায়বদ্ধতা পূরণে অক্ষম হয় তখনই দক্ষিণপন্থি গণ-আন্দোলন হিসেবে ফ্যাসিবাদ শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

এ-ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই যে আশির দশকের সূচনা কাল থেকে বিশ্ব-পুঁজিবাদ একের পর এক সংকটের আবর্তে জড়িয়ে পড়েছে। ১৯৮৭ সালে ‘ওয়ার্ল্ড স্ট্রিট ক্র্যাশ’ থেকে নব্বই-এর দশকে ‘এশিয়ান ক্রাইসিস’, ‘ডট কম বাবল’ এবং তার পরবর্তীকালে ‘এ ধরনের ধ্বংস’- সর্বশেষে ২০০৮-০৯-এর আর্থিক সংকট- এসবই পুঁজিবাদের প্রলম্বিত সংকটের চেহারাকে তুলে ধরে। বেকারি, আর্থিক বৈষম্য, মুদ্রাস্ফীতি এবং সর্বোপরি ক্লাইমেট ক্রাইসিস নয়া-উদারবাদের প্রকল্পটিকে ক্রমাগত প্রশ্নের সম্মুখীন করে তুলছে। কিন্তু এ-কথাও পাশাপাশি সত্য যে পৃথিবীজুড়ে শ্রমজীবী মানুষ শ্রেণিশক্তি হিসেবে নতুন রূপে আবির্ভূত হচ্ছে এবং একচেটিয়া ফিন্যান্স পুঁজিকে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করে তুলছে এমনটা বর্তমানের বাস্তবতা নয়। বরং পৃথিবীজুড়ে পুঁজির দাপটই আজকের পৃথিবীর প্রধান প্রবণতা।

একথা ঠিক যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতে অত্যন্ত শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত শক্তি হিসেবে ভবিষ্যতের আহবান নিয়ে পৃথিবীর রঙ্গমঞ্চে আবির্ভূত হচ্ছে চীন, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে মুক্ত প্রতিযোগিতার ময়দানে ক্রমাগত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করে তুলছে। কিন্তু পৃথিবী জুড়ে সমাজতান্ত্রিক পরিবর্তনের কোনও ব্যাপক পরিমণ্ডল এর মধ্যে দিয়ে এখনই গড়ে উঠছে এমনটা নয়। কিন্তু এতদসত্ত্বেও কেন নব্য-ফ্যাসিবাদের জন্ম হচ্ছে? কিসের ভয় পৃথিবীর একচেটিয়া ফিনান্স পুঁজি দেশে দেশে দক্ষিণপন্থী ফ্যাসিবাদী প্রবণতাগুলিকে সাহায্য করে চলেছে? ফ্যাসিবাদী উগ্র রাষ্ট্রবাদের রাজনীতিকে গণ-আন্দোলনে রূপায়িত করার নানাবিধ প্রচেষ্টায় কেন সক্রিয় হচ্ছে? প্রচলিত লিবারেল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আপামর জনতার ক্রমবর্ধমান আস্থাহীনতা যেমন তার একটা কারণ, কিন্ত প্রধান বিষয়টি হল পুঁজিবাদী কর্তারা এটা বুঝতে পারছেন যে পুঁজিবাদের এই দীর্ঘমেয়াদী সংকট থেকে পরিত্রাণের কোনও রাস্তা নেই। সর্বোপরি চীনের আবির্ভাব প্রযুক্তিগত দিক থেকে অনেক ক্ষেত্রেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপকে পেছনে ফেলে দিতে সক্ষম হচ্ছে। আবার শ্রমজীবী মানুষের অধিকারগুলিকে খর্ব করে ও তাদের জাতীয় আয়ের অংশীদারত্ব ক্রমাগত কমাতে কমাতে বৈষম্যের চেহারা এক বিস্ফোরক আকার ধারণ করছে। সর্বোপরি ধ্রুপদী ফ্যাসিবাদের যুগে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ও যুদ্ধ-উন্মাদনা যেভাবে প্রসারিত করা সম্ভব হয়েছিল, যা সেই সময়ের আর্থিক সংকট মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছিল, তা আজকের আন্তর্জাতিক ফিন্যান্স পুঁজির আধিপত্যের যুগে ও বিশ্বব্যাপী উৎপাদন কাঠামোর বিস্তৃতির বাস্তবতায় একইভাবে সম্ভাব্য নয়। নিয়ন্ত্রিত দাদাগিরি ও অস্ত্র-ব্যবসা কিছুটা সম্ভব হলেও বিশ্ব পরিসরে যুদ্ধের পরিকল্পনা অথবা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত আর্থিকভাবে বহন করা পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের পক্ষে আজ প্রায় অসম্ভব।

নয়া-উদারবাদি জমানায়, একদিকে বৃহত্তর জনগণকে নির্মম শোষণের মাধ্যমে পুঁজির বিকাশের প্রয়োজনীয়তা, আবার অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মতামতের ভিত্তিতে ক্ষমতায় আসার গণতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতা- এই দুই পরস্পরবিরোধী প্রবণতার দ্বন্দ্বে ক্লিষ্ট আজকের নয়া-উদারবাদ। ক্রমবর্ধমান আর্থিক সংকটের কারণে প্রচলিত গণতান্ত্রিক কাঠামোর পরিসরে অথবা তার বাইরেও যে কোনও সময় বিস্ফোরক আন্দোলনের চেহারা নিতে পারে এই আতঙ্ক অমূলক নয়। বিভিন্ন রূপে ইতিমধ্যেই পৃথিবীর নানা দেশে তা প্রতিভাত হচ্ছে। অতএব সবচেয়ে শক্তিশালী পুঁজিপতির অংশ আজ বেপরোয়াভাবে নিজেদের কর্তৃত্ব স্থাপন করতে চেষ্টা করছে।

যে-দক্ষিণপন্থি আন্দোলন জাগিয়ে রাখা হয় শ্রমজীবী মানুষকে বিভক্ত করার জন্য সেই দক্ষিণপন্থিরা রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে জায়গা করে নিচ্ছে দেশে দেশে। গণতন্ত্রের প্রচলিত প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে দিয়ে শ্রেণি আধিপত্য রক্ষা করা যখন আর সুরক্ষিত নয়, তখন সবচেয়ে নির্লজ্জ শ্রেণি একনায়কতন্ত্র কীভাবে গণতন্ত্রের মোড়কে উপস্থিত করা যায়, তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে বিশ্বজুড়ে। গণতন্ত্র ধ্বংস করা মানে সব সময় ভোট বন্ধ করে দেওয়া অথবা মিলিটারি শাসন কার্যকরী করা নয়। নির্বাচন ব্যবস্থা অক্ষত রেখেও গণতন্ত্রের পরিসরকে ধ্বংস করা যায়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রথম ও প্রধান প্রতিপাদ্যটি হল সমস্ত নাগরিককে এক হিসেবে দেখার সংস্কৃতি। যদি এই প্রধান গণতান্ত্রিক মূল্যবোধটিকে ধ্বংস করা যায়, যদি বেশ কিছু মানুষের সমনাগরিক সত্তা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দেওয়া যায়, যদি এই প্রশ্নে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়িয়ে দেওয়া যায়, যদি ধর্ম বা বর্ণের ভিত্তিতে সংখ্যাগরিষ্ঠর সত্তাকে জয়ী করার জন্য গণতন্ত্রের বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকেজো করে দেওয়া যায়, যদি সরকার বিরোধিতাকে একটি রাষ্ট্রীয় অন্যায়ে পর্যবসিত করা যায়, যদি প্রচার মাধ্যমকে শাসকের নির্লজ্জ স্তাবকে পরিণত করা যায়– তাহলে গণতন্ত্র শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়। এই ধ্বংসলীলার সফল প্রয়োগের মধ্যে দিয়েই বিরোধী স্বরের অবলুপ্তি ঘটে, তৈরি হয় পুঁজির নিরঙ্কুশ ক্ষমতা- জন্ম নেয় ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র।

নয়া-ফ্যাসিবাদ বিরোধী সংগ্রাম সেকারণেই শুধু নির্বাচনী লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নয়। বরং তা গণতন্ত্রের পরিসরের পুনর্নির্মাণের লড়াই। মুষ্টিমেয় একচেটিয়া ফিন্যান্স পুঁজি যখন খোলাখুলিভাবে সমাজ অর্থনীতি, সংস্কৃতির উপরে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে, তখন ব্যাপকতম শ্রমজীবী মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামই হল গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই। প্রলম্বিত সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে শাসকশ্রেণি আধিপত্য প্রতিষ্ঠার যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তা যতই আক্রমণাত্মক দেখাক না কেন, আসলে তা পুঁজিবাদের বেঁচে থাকার শেষ রক্ষণাত্মক প্রচেষ্টা। আর অন্যদিকে শ্রমজীবী মানুষ প্রতিদিনের বেঁচে থাকার লড়াই ও অধিকার রক্ষার নিত্য নৈমিত্তিক দরকষাকষির পাশাপাশি খুঁজতে চাইছে এক নতুন সর্বজনীন ন্যায়ের প্রতিমা, যা কেবলমাত্র আধুনিক সমাজবাদের ধারণাই দিতে পারে। নয়া-উদারবাদের অভিযোজনের দিন শেষ হয়ে আসছে। তাই তা আজ প্রচণ্ড উগ্র এবং নির্লজ্জ। অন্যদিকে, পৃথিবীতে সমাজবাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ক্রমাগত পরিণত ও প্রত্যয়ী রূপ ধারণ করছে। এই যুগসন্ধিক্ষণে শুধু আক্রান্ত মানুষের হাত ধরা নয়, নতুন সর্বজনীন ন্যায়ের স্বপ্ন হাজির করতে হবে বামপন্থিদেরই।

সৌজন্যে : মার্কসবাদী পথ

খবরনয়া-ফ্যাসিবাদ
FacebookTwitterPinterestLinkedInTumblrRedditVKWhatsAppEmail

সাত্যকি রায়

হান্ডিংটন সাহেব আর তার চেলারা
বর্তমান সময়ের আশংকা গুলি নির্মূলে কার্যকর রাজনীতি জরুরি
Related posts
  • Related posts
  • More from author
কলাম

সনদের মোহে নিঃস্ব অভিভাবক: আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার এক করুণ ট্র্যাজেডি

August 6, 20260
কলাম

শেখ হাসিনার যেই অপরাধের বিচার বুর্জোয়ারা কখনোই চাইবে না

August 6, 20260
অর্থনীতি

ব্যাংকের পুনরুদ্ধার অভিযান: কেন প্রয়োজন একজন ‘প্রধান রিকভারি ও রেজোলিউশন কর্মকর্তা’ (CRRO)

June 29, 20260
Load more
Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Read also
কলাম

সনদের মোহে নিঃস্ব অভিভাবক: আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার এক করুণ ট্র্যাজেডি

August 6, 20260
কলাম

শেখ হাসিনার যেই অপরাধের বিচার বুর্জোয়ারা কখনোই চাইবে না

August 6, 20260
অর্থনীতি

ব্যাংকের পুনরুদ্ধার অভিযান: কেন প্রয়োজন একজন ‘প্রধান রিকভারি ও রেজোলিউশন কর্মকর্তা’ (CRRO)

June 29, 20260
অর্থনীতি

অর্থঋণ আইনের ৪৬ ধারায় প্রধান নির্বাহী বিপদে

June 15, 20260
অর্থনীতি

টেকসই ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আইন বিভাগের রূপান্তরমূলক ভূমিকা

June 8, 20260
কলাম

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কেন বাংলাদেশে কার্যকর নয়

June 6, 20260
Load more

সম্প্রতি প্রকাশিত

  • সনদের মোহে নিঃস্ব অভিভাবক: আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার এক করুণ ট্র্যাজেডি
  • শেখ হাসিনার যেই অপরাধের বিচার বুর্জোয়ারা কখনোই চাইবে না
  • ব্যাংকের পুনরুদ্ধার অভিযান: কেন প্রয়োজন একজন ‘প্রধান রিকভারি ও রেজোলিউশন কর্মকর্তা’ (CRRO)
  • অর্থঋণ আইনের ৪৬ ধারায় প্রধান নির্বাহী বিপদে
  • টেকসই ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আইন বিভাগের রূপান্তরমূলক ভূমিকা

    # বিষয়

    সম্প্রতিখবরমূললিডলিড১সিপিবিচীনইরান ইসরাইল যুদ্ধডোনাল্ড ট্রাম্পনির্বাচনকাতার বিশ্বকাপমেট্রোরেলব্রিকসবাম জোটরাজনীতিব্যাংকIran Israel conflictমে দিবসবিএনপিকমপ্লিট শাটডাউনে
    স্বত্ব: © সাম্প্রতিক
    • সাম্প্রতিক
    • নীতিমালা
    • যোগাযোগ
    • সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চেনেল
    • ডাউনলোড এন্ড্রয়েড অ্যাপ