শেখ হাসিনা সরকারের আমলে করোনা মহামারীর কালে রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫টি পাটকল এবং ৬টি চিনিকল বন্ধ করে কলগুলো ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দেবার পথ তৈরী করা হয়েছিল। একই বছর ডিসেম্বর মাসে ৬টি রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলে আখ মাড়াই কার্যক্রম স্থগিত বা বন্ধ করা হয়। যার ফলে বহু পরিবারের আয় রোজগার বন্ধ হয়ে যায়। অনেক শ্রমিক চিকীর্ষার অভাবে ধুকে ধুকে মৃত্যুবরণ করেন। কারখানা বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য নির্ধারিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ হয়ে যায়। তাদের ঘরের মা বোনরা অনেকে পেটের দায়ে শরীর বিক্রি করতে বাধ্য হন। অনেকে আত্মহননের পথ বেছে নেন। সমাজে অপরাধ প্রবণতা স্বাভাবিক ভাবেই বৃদ্ধি পায়। যেই ঘটনাগুলো বুর্জোয়া মিডিয়াতে সাধারণত স্থান পায় না। এই কারখানাগুলো বন্ধ করার পিছনে ছিল আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন। যেই আমলা ও রাজনীতিবিদরা সেই প্রেসক্রিপশন বাস্তবায়নের পিছনের কাজ করে তাদের জন্য থাকে কমিশন। এই ভাবেই সরকারি সম্পত্তি অর্থাৎ জনগণের সম্পত্তি ব্যক্তিমালিকানায় পানির দরে তুলে দেয়ার প্রক্রিয়া এখনো অব্যাহত আছে। বর্তমান সরকার ৪৪ টা রাষ্ট্রীয় শিল্প ব্যাক্তিমালিকানায় তুলে দেবার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পুঁজিবাদী ব্যবস্থা একটা নীরব ঘাতক। মানবতা বিরোধী এই ব্যবস্থায়ই শেখ হাসিনা কে জন্ম দিয়েছে। পুঁজিবাদী সংকট, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সমাজতন্ত্রের ভয়ের প্রেক্ষাপটে ইউরোপে ফ্যাসিজমের উদ্ভব হয়েছিল।আমরা যদি সঙ্কটের উৎস এর দিকে আলো ফেলার বিদ্যা জনগণের মধ্যে বিতরণ না করি তাহলে সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব না। এখন যদি মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়িত হয় তাহলে বাংলাদেশের কৃষি, শিল্প বিপর্যস্ত হবে, অনেক মানুষ কাজ হারাবে। শেখ হাসিনা কে এই চুক্তির বিরুদ্ধে একটি কথাও বলতে শুনবেন না। কারণ সে অপেক্ষায় আছে যে সাম্রাজ্যবাদ যদি বিএনপি জামাত কে দিয়ে এই চুক্তি বাস্তবায়ন করতে না পারে তাহলে সে এই চুক্তি বাস্তবায়ন করতে আওয়ামীলীগ কে আবার বেছে নিতে পারে। তাই আসুন আমরা সঙ্কটের উৎসের দিকে আলো ফেলি যাতে জনগণ সহজে তা দেখতে পায়। এই কারণেই কমিউনিস্টরা বুর্জোয়া শ্রেণীর বিরুদ্ধে লড়াই করে এই শ্রেণীকে পরাস্ত করে সমাজে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্টা করার জন্য।